শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি পরিবর্তনের চাপ দিচ্ছে নিজ দল

শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নীতি পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। হোয়াইট হাউসে রদবদল, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন খোদ নিজ দলের নেতারা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীরাও পরাজিত হয়েছেন। ফলে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ট্রাম্পকে নানা বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

অভিজ্ঞ রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ জন ফিহেরি নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তন করে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তার উচিত পুরো প্রশাসন ঢেলে সাজানো। এখন থেকে প্রতিটি দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও কমতে থাকবে।’

তবে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের জন্য বড় কোনো ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে আমার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি না।’

নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়া, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো এবং বিভিন্ন নিয়োগে বাধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের ওপর ট্রাম্পের নির্ভরতা বাড়তে পারে।

এদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যেও ট্রাম্পের নীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার ইরান যুদ্ধকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসে কর্মীদের মনোবল এখন তলানিতে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করা হলেও ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের নীতি পরিবর্তনে রাজি হননি। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এসব প্রকল্পের বিরোধিতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দলের এক রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তার আশঙ্কা, ট্রাম্প আগামী দুই বছর একই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলে পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আবারও বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

তবে নির্বাচনের পরও ট্রাম্পের হাতে যথেষ্ট নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। যদিও নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে কংগ্রেসের তদন্ত এড়ানো সম্ভব হবে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন