বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

ইউরোপজুড়ে উড়োজাহাজে বোমা আতঙ্ক, ব্যাহত বিমান চলাচল

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে একের পর এক বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অন্তত সাতটি ফ্লাইট এবং ইসরায়েলগামী একটি প্রমোদতরিতে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় কয়েকটি বিমানবন্দরে জরুরি তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশর একটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তবে কোনো উড়োজাহাজ বা জাহাজে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, হুমকির মুখে পড়া সব উড়োজাহাজই নিরাপদে অবতরণ করেছে। আক্রান্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল রায়ানএয়ার, উইজ এয়ার, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস এবং পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা লটের উড়োজাহাজ। সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়ে রায়ানএয়ারের চারটি ফ্লাইট।

পোল্যান্ডের ওয়ারশগামী দুটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর শপিন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কোপেনহেগেন থেকে আসা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করলেও উড়োজাহাজ পরীক্ষা করতে বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। লন্ডনের হিথ্রো থেকে আসা লটের একটি ফ্লাইটকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। সেখানেও তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

ইতালি, স্পেন ও বুলগেরিয়াতেও একাধিক ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়। ইতালিতে ডাবলিন থেকে রোমগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে দেশটির দুটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে স্পেনের মুরসিয়া এবং বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরেও সন্দেহভাজন উড়োজাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও বিস্ফোরকের সন্ধান মেলেনি।

একই দিন গ্রিসের সাইরোস দ্বীপের কাছে নোঙর করা পানামার পতাকাবাহী ‘ক্রাউন আইরিস’ নামের একটি প্রমোদতরিতেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। জাহাজটিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ যাত্রী ও নাবিক ছিলেন। ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা জাহাজটি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক না পাওয়ায় পুনরায় যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এর আগের দিন সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে সোফিয়াগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট মাঝআকাশে বোমা হামলার হুমকি পায়। পরে উড়োজাহাজটিকে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা সতর্কতার ভিত্তিতে হাঙ্গেরির গ্রিপেন যুদ্ধবিমান উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করে।

ইউরোপজুড়ে এসব হুমকির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা ও নাশকতাসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড হামলায়’ জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছেন। যদিও মস্কো ও তেহরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিমান চলাচলের ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওসপ্রে ফ্লাইট সলিউশনের কর্মকর্তা রাইস জোনস বলেন, এক দিনে একাধিক ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকির ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। তার মতে, নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা বিমান সংস্থাকে লক্ষ্য না করে ইউরোপের সামগ্রিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই এসব হুমকির উদ্দেশ্য হতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন