বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিল আদালত

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ট্রাম্পের একই ধরনের একটি উদ্যোগকে সংবিধানবিরোধী বলে রায় দেওয়ার পর নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মেরিল্যান্ডের জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান ট্রাম্পের ৬ আগস্ট জারি করা নতুন নির্বাহী আদেশের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

ট্রাম্পের নতুন আদেশের লক্ষ্য ছিল তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানো। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। আদেশে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এর মধ্যে এমন বিদেশি নাগরিকদের সন্তানও রয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের ‘এলিয়েন এনিমি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, ট্রাম্পের নতুন আদেশও আগের উদ্যোগের মতোই অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি গত জুনে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেন।

আদালতের লিখিত আদেশে বোর্ডম্যান বলেন, ‘বারবারা’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিক। ফলে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগও সাংবিধানিকভাবে টিকবে না।

বিচারক বলেন, এ কারণে প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ প্রচেষ্টার বাস্তবায়নও প্রাথমিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এর আগে ‘বারবারা’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়ে জানায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত। এই বিধানের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। তবে কূটনীতিক বা কোনো আগ্রাসী বাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের মতো কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি বহাল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ইউএস বনাম ওং কিম আরক’ মামলা। ওই মামলায় চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ওং কিম আরকের নাগরিকত্বের অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল।

তবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচারণায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও ছিল তার অন্যতম।

ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দাবি, অস্থায়ী ভিসায় থাকা বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অভিবাসীদের সন্তানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী নয়। তাদের যুক্তি, এসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখতিয়ারের’ অধীনে নয়।

জুনে সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সহযোগীরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ করার বিভিন্ন পথ খুঁজে আসছে।

বুধবারের মামলাটি দায়ের করেছে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও কয়েকটি পরিবার। তাদের মধ্যে অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্টও রয়েছে।

এর আগে গত বছর একই বিচারক বোর্ডম্যান ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি বাদীপক্ষকে নতুন নির্বাহী আদেশের বিষয়টি আলাদাভাবে যুক্ত করে অভিযোগ সংশোধনের নির্দেশ দেন।

তখনই বিচারক ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বুধবারের রায়ে তিনি আবারও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিশুরা ‘জন্মের সময়ই নাগরিক’।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন