রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

২৪ ঘণ্টার সফর, নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পুলিশ: যেভাবে দিল্লিতে পাহারা দেওয়া হচ্ছে শি জিনপিংকে

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। মাত্র ২৪ ঘণ্টার এই সফরকে ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি।

শনিবার সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কসহ দুই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রয়েছেন চীনের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

বহুস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা

শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ে। তার চলাচল ও অবস্থানের নিরাপত্তায় একাধিক সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট যে হোটেলে থাকবেন, সেটিকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে রাখা হবে। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা শনাক্তকারী দল মোতায়েন থাকবে। হোটেলটিতে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশিও চালানো হবে।

তল্লাশির আওতায় থাকবে সম্ভাব্য পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও। পাশাপাশি হোটেলের আশপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোও পরীক্ষা করা হবে।

১০ দিন আগেই ভারতে শি জিনপিংয়ের গাড়ি

শি জিনপিংয়ের সফরের প্রায় ১০ দিন আগেই একটি কার্গো উড়োজাহাজে করে ভারতে পাঠানো হয়েছে তার রাষ্ট্রীয় গাড়ি হংকি। এর সঙ্গে একটি বিকল্প গাড়ি ও যোগাযোগের সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট ভারতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করবেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর আনা কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগের সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। এছাড়া কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ভারতে আনা যায় না; এসব সরঞ্জাম দেশে প্রবেশের পর কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হয়।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি সরকারগুলোর উত্থাপিত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার বোয়িং ৭৪৭-৮

শি জিনপিং সাধারণত এয়ার চায়নার পরিচালিত বিশেষভাবে পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেন। এটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে।

উড়োজাহাজটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিল। ২০১৪ সালে এটি এয়ার চায়নার বহরে যুক্ত হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে সেটি সেবা থেকে সরিয়ে কয়েক মাস ধরে বিশেষভাবে পরিবর্তন করা হয়। ২০১৬ সালে ভিআইপি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ এটি রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত হয়।

উড়োজাহাজটিতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং সরকারের পাশাপাশি সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এতে হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের পাল্টা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষায় ইএমপি প্রতিরোধব্যবস্থাও রয়েছে।

১৫ হাজার পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি

ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সেক্টর ও জোনে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত শি জিনপিংয়ের চলাচলের সম্ভাব্য রুটে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া তুঘলক রোড থানায় একটি বিশেষ সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য পুরো রুটে আরও অতিরিক্ত নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন