মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির (মুমুপকস) তহবিল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্বহাল এবং বর্তমান প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। একই সঙ্গে বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
এসব দাবিতে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের দাবি, একদল ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং সদস্যদের হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় স্লোগান দিয়ে তাঁদের সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে একই সময়ে বিজয় রাকিন সিটির ভেতরেও হামলা ও তাণ্ডব চালানো হয়। এতে একজন ফ্ল্যাট মালিক আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) কাজী মফিজুল ইসলাম বলেন, বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিকেরা বৈধ দলিল, নিবন্ধিত বণ্টননামা ও নামজারির মাধ্যমে মালিকানা অর্জন করেছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। এসব ফ্ল্যাটে তাঁদের অবৈধ বসবাসের বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সমিতির সদস্য হতে পারেন। তাই ফ্ল্যাট মালিকদের হয়রানি ও তাঁদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৫১০ সদস্যের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ৭ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে নির্বাচিত কমিটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সদস্যদের।
তাঁদের দাবি, সাবেক প্রশাসক আবু মাসুদ সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজের বিরুদ্ধেও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত সমিতিটির সদস্যদের অর্থায়নে ১৬ দশমিক ০৩ একর জমিতে বিজয় রাকিন সিটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। প্রকল্পটির ২৭৪টি নিবন্ধিত ফ্ল্যাটের মালিকদের হয়রানি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন