অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নিধন চালাচ্ছে’ বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ঘোষণা করে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে, স্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করছে। এসব কারণেই ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।
এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দিল। ওই মতামতে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তা প্রতিরোধে অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের কথাও জানিয়েছিল।
মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় ইসরাইলি সরকার অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থেকেছে; বরং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না তাদের দেশের দোকান ও সুপারমার্কেটে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য বিক্রি হোক। তাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি নির্মাণ, অবকাঠামোয় অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ বসতিতে অর্থায়ন বা অন্যভাবে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে।
আরও ১১ দেশের সমর্থন
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বা তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন