শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

শিরোনাম

তেলের দামে বড় লাফ, চাপে বিশ্ববাজার

শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতিও নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ৭. ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজার খোলার পর কিছুটা কমে আসে। গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১০১.১২ ডলার। দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটি ১০৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছিল।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি হামলার পরে তেলের দামের নতুন এই উর্ধ্বগতি দেখা যায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজের ওপর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা করে।

অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আশপাশের আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি বেসামরিক এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে। কারণ, বড় তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতির আশঙ্কা থেকেই বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার বাজার খোলার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক—সবগুলোই ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। আগের দিন সর্বোচ্চ রেকর্ড ছোঁয়ার পর বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৪ শতাংশ কমে যায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন