দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্র বা স্টেট স্পন্সর অব টেররিজম (এসএসটি)’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামকেও (এইচটিএস) এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে সিরিয়ার ওপর থাকা বিভিন্ন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পাশাপাশি দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পথও খুলে যাবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি বলেছেন, ‘১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে।’
সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই বলছে, এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) ওপর থাকা ‘স্পেশালি ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেরররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ফলে এখন থেকে সিরিয়ার জনগণকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আরো একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠন হিসেবে পরিচিত এইচটিএসের শীর্ষ নেতা ছিলেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর নেওয়া হলো। ওই হামলার প্রেক্ষিতে সিরিয়ার অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র তুরস্ক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
হামলার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়ায় নিযুক্ত দূত টম ব্যারাক গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ওই হামলাকে ‘গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের প্রতিক্রিয়া থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, ইসরায়েল হয়তো তুরস্ককে যুদ্ধে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে।
এর আগে সিরিয়াকে কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেন। ঘোষণাটি ছিল তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তার সফরের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
সেখানে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ফাঁকে তিনি শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেই বৈঠকটি শারার জন্য একটি বিজয় ছিল, কারণ এক বছরেরও বেশি সময় আগে সৌদি আরবের রিয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয় এবং নভেম্বরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওভাল অফিসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন