মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

শিরোনাম

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: প্রাণহানি এড়াতে নারী পাইলটের শেষ লড়াই

মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বিমানটির নারী পাইলট আহত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আকাশে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে লোকালয়ের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উড়তে থাকা বিমানটিকে জনবসতি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন পাইলট। শেষ পর্যন্ত জরুরি অবতরণের সময় বিদ্যুতের তারে আটকে বিমানটি সড়কের পাশে ভেঙে পড়ে।

সোমবার বিকেলে কাসগঞ্জ জেলার একটি নির্মাণাধীন মহাসড়কের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত নারী পাইলটকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রায় পাঠানো হয়। তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি একটি হালকা প্রশিক্ষণ বিমান। এটি আলিগড় থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই পাইলট যান্ত্রিক সমস্যার মুখোমুখি হন বলে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যায়। এ সময় বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি কয়েকবার নিচু দিয়ে চক্কর দেয়। সেটি স্বাভাবিকভাবে উড়তে পারছিল না এবং ভারসাম্য রক্ষা করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর পাইলট জনবসতি এড়িয়ে একটি নির্মাণাধীন ছয় লেনের মহাসড়কে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। তবে অবতরণের ঠিক আগে বিমানটি বিদ্যুতের তারে আঘাত করে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি মহাসড়কের পাশে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি নিচু দিয়ে বারবার ঘুরছিল। তখনই অনেকের মনে সন্দেহ হয় যে কোনো সমস্যা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিমানটি মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয় মানুষ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পাইলটকে উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। বিমানের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও অন্য সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আবহাওয়ার পরিস্থিতি, উড্ডয়নের সময়কার প্রযুক্তিগত তথ্য এবং বিমানের কারিগরি অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।

বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ছিল। মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর বিমানটির অবস্থান নির্ধারণে কিছু সময় সমস্যা হয়। পরে জানা যায়, সেটি কাসগঞ্জে বিধ্বস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর নারী পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি লোকালয় এড়িয়ে বিমান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করছে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন