বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার : প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার করা। এই সত্যকে সামনে রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সামান্য বিরোধ সঠিক পরামর্শের অভাবে জটিল রূপ নেয়, যা মানুষকে বিচারবিমুখ করে তোলে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, ন্যায়ের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক পাওনা। অর্থের অভাবে কেউ আইনি সুরক্ষা পাবে না- এমন পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মেনে নেওয়া যায় না।

নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যখন কারাগারে ছিলাম, তখন দেখেছি অনেক মানুষ স্রেফ টাকার অভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি রয়েছেন। একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে এমন দৃশ্য কাম্য নয়। দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে। এই যাত্রাকে সুসংহত করতে হলে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

লিগ্যাল এইডের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি জানান, আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে এরই মধ্যে হাজার হাজার বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এতে যেমন বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি আদালতের ওপর চাপ কমছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া আইনি সহায়তার পদক্ষেপগুলো বর্তমান সরকার আরও আধুনিক ও জনমুখী করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাসকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আইনি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘ব্র্যাক’ ও এর নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন