ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েই চলেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনো নিখোঁজ থাকা হাজার হাজার মানুষকে খুঁজে বের করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা। জীবিত উদ্ধার হওয়া কয়েকজন নতুন করে স্বজনদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। সেখানে শত শত ভবন ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখনো জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকায় অভিযান বন্ধ করা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো বসবাসের উপযোগী কিনা, তা নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছে সরকার। এছাড়াও লা গুয়াইরায় আরও এক সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ হাজার ৭২১ জন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, বিরোধীদল-সমর্থিত একটি ওয়েবসাইটের দাবি করেছে, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আফটারশক অব্যাহত থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার একটি ‘যুগ্ম ভূমিকম্পে’ কেঁপে ওঠে, যা সময় ও স্থান উভয় দিক থেকেই কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। এটি ছিল গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে একই মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখেরও বেশি মানুষের এবং ২০০৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মীরে ৭৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন