শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

শিরোনাম

মামদানির স্ত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদ, মিস ইসরাইলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়

শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

নিউ ইয়র্ক সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজির সঙ্গে এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বর্তমান ‘মিস ইসরাইল’ মেলানি শিরাজ। ফার্স্ট লেডির কট্টর ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের কারণে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন এই সুন্দরী।

রামা দুয়াজি নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী। পেশায় শিল্পী ও চিত্রশিল্পী রামা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থি এবং ইসরাইলবিরোধী অধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে তার সোচ্চার মানবিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এর আগেও নানা আলোচনা হয়েছে।

মেলানি শিরাজ জানান, নিউ ইয়র্কে ইসরাইলি কনসুলেটের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দিতে গিয়ে একটি ক্যাফেতে আকস্মিকভাবে রামা দুয়াজির সঙ্গে তার দেখা হয়।

শিরাজ বলেন, ‘অনুষ্ঠানে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে আমি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই রামা দুয়াজি সেই ক্যাফেতে ঢোকেন এবং আমার পাশের টেবিলে বসেন। আমি আগে থেকেই তার অনলাইনে ছড়ানো ইসরাইলবিরোধী বক্তব্যগুলো দেখেছি। তাই সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার এ সুযোগটি আমি হাতছাড়া করতে চাইনি’।

শিরাজ আরও যোগ করেন, ‘শুরুতে আমি নিজের আসল পরিচয় না দিয়ে শুধু ‘মেলানি’ হিসেবে পরিচয় দিই। তিনি খুব হাসিমুখে কথা বলেন এবং আমার সঙ্গে ছবি তুলতেও রাজি হন। কিন্তু যখনই আমি জানালাম যে আমি একজন ইসরাইলি এবং বর্তমানের ‘মিস ইসরায়েল’, তখনই তার আচরণের ধরন বদলে যায়। যদিও ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার দায়িত্ব অনুযায়ী তিনি যথেষ্ট মার্জিত ও সৌজন্যমূলক আচরণই বজায় রেখেছিলেন’।

শিরাজ দাবি করেন, তিনি একটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ফার্স্ট লেডিকে বলেন, ‘আপনার অনলাইনে প্রচার করা ইসরাইলবিরোধী বক্তব্যগুলো দেখে আমি হতাশ হয়েছি। ইসরাইলের প্রতিনিধি হিসেবে আমার কাজ হলো বিপক্ষ মতের মানুষের সঙ্গেও গঠনমূলক সংলাপ করা’।

তবে শিরাজের মতে, রামা দুয়াজি এ আলাপচারিতা দীর্ঘ করতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি কিছুটা উদাসীনভাবে মাথা নেড়ে এড়িয়ে যান। শিরাজ তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি কখনো এর আগে কোনো ইসরাইলির সঙ্গে কথা বলেছেন? জবাবে দুয়াজি কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে ‘হ্যাঁ, বলেছি’ বলে জানান এবং তার অনেক ইসরাইলি বন্ধু আছে বলেও উল্লেখ করেন।

এ ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের আলাপচারিতাকে এভাবে জনসমক্ষে এনে শিরাজ ফার্স্ট লেডির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন এবং পরিস্থিতিকে অহেতুক ঘোলাটে করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তিনি তো সৌজন্যমূলক আচরণই করেছেন। কারো সঙ্গেই কথা বলতে তিনি বাধ্য নন, তাহলে এখানে এতো ক্ষোভের কী আছে?’

উল্লেখ্য, জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজি এর আগেও তার কড়া ইসরাইলবিরোধী মন্তব্যের জন্য তোপের মুখে পড়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি তার পুরোনো কিছু বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং স্বীকার করেছিলেন যে সেই বক্তব্যগুলো অনেকের জন্য পীড়াদায়ক ছিল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন