মালয়েশিয়ার খাদ্য ও পানীয় (এফঅ্যান্ডবি) খাতসহ বিভিন্ন সেবা ও উৎপাদনমুখী শিল্পে চলমান বিদেশি শ্রমিক সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহেই বৈঠকে বসছে দেশটির একটি বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটি। উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শ্রমিক সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী সংকটে ভুগছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্প খাত। বিশেষ করে উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং খাদ্য ও পানীয় (এফঅ্যান্ডবি) খাতের নিয়োগকর্তারা বারবার নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল আশাবাদী।
শুক্রবার (২৬ জুন) সরকারের সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইউনিটি সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন খাতের শ্রমিক সংকট এবং ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ফাহমি ফাদজিল জানান, শ্রমবাজারে বিদ্যমান সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের বৈঠকে বিভিন্ন শিল্প খাতের নিয়োগকর্তাদের প্রস্তাব ও চাহিদা পর্যালোচনা করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের ইতিবাচক ফল আগামী জুলাই মাস থেকেই দৃশ্যমান হতে পারে।
গত বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সফরের মাধ্যমে চলমান বিভিন্ন বিষয়ে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে সরকার আশা করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার বিশেষ ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক যোগাযোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার এবং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন