মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও গর্বিত। তবে কোনো কারণে যারা কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এটাই জীবনের শেষ সুযোগ নয়। যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতেও যেন তারা সব বাধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার বাড়িয়ে দেখানো হতো। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার যে ফলাফল দেখছি, এটি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়া। পরীক্ষাটির কার্যক্রম গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এবার খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, যেভাবে যে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে, ঠিক সেভাবেই খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এর জন্য পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। তাই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক না তুলে এটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আজকের এই এসএসসি পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছে, তাদের ফলাফল ভালো হোক বা খারাপ, কিংবা প্রত্যাশিত বা অপ্রত্যাশিত, আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাতে পারছি যে, এবার কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সার্বিক কার্যক্রমে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থী, শিক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের বিপুল প্রত্যাশার মুখে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না, সেটি একটি গুরুত্বের বিষয় ছিল। গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। শিক্ষামন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় এবার ঠিক সেভাবেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, আজকে আমাদের বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট, যারা ভালো ফলাফল করেছে কিংবা যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, সবার উদ্দেশ্যেই বলা: প্রত্যেকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখো; কখনোই থেমে যাওয়া যাবে না।
সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত খাত ছিল এই শিক্ষাব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকেই আমরা এখন একাডেমিক কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন ও সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছি। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষেই হয়তো সব পরিবর্তন একবারে করা সম্ভব হবে না। তা সত্ত্বেও আমরা নতুন করে বেশ কিছু কারিকুলাম পরিবর্তন করছি এবং চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করছি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, এর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক সংযোজন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আমাদের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন