যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার পর ৬০ দিনের চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই দেশ। তবে এখন এসে সেই উত্তেজনার পারদ যেন শীর্ষে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখন সম্ভবত সবচেয়ে চর্চিত বিষয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণে তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করার তার সেই দাপুটে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে এই চুক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইরান শান্তিচুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর বিশ্বাস ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কার্যকর প্রভাব খাটিয়ে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন।
রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি বারবার বলে এসেছেন, তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অব্যাহত সামরিক চাপ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। মার্কিন কূটনীতিকরা তাকে ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ বলেও অভিহিত করতেন। কারণ তিনি এমন একজন নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন যিনি সরাসরি ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারতেন। অন্য কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মতো এতবার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেননি বা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এত দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব গড়ে তুলতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান ছিল দৃঢ়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা সেই পুরোনো ধারণাকে উলটে দিয়েছে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন