সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

স্ত্রীকে হত্যার পর মাথা ফ্রিজে, থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি থেকে লাফিয়ে মৃত্যু

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভারতের আসামের গৌহাটি শহরে স্ত্রীকে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা ফ্রিজে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার এক ব্যক্তি পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছেন। মৃত ওই ব্যক্তির নাম রামানুজ গোস্বামী (৩০)।

এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি বলছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাকে চিকিৎসা পরীক্ষার পর গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ) থেকে হাতিগাঁও থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে নারকাসুর পাহাড় এলাকায় হঠাৎ তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন।

পুলিশের গাড়ি থেকে পড়ে তিনি একটি গভীর খাদে গিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটির একটি ফ্ল্যাটে নিজের স্ত্রী রিয়া তালুকদার (২৫)-কে হত্যার অভিযোগে গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত—এমন সন্দেহ থেকেই তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন বলে পরে জানান।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে। পরে পুলিশ ফ্ল্যাটের ফ্রিজে রাখা একটি কালো পলিথিনের ব্যাগ থেকে রিয়ার কাটা মাথা ও আঙুল উদ্ধার করে বলে জানায়।

গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন গোস্বামী। এরপর তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে হত্যার ঘটনায় তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানান। বরং তিনি হত্যার জন্য কোনো দুঃখ বা ক্ষমা চাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গোস্বামী এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর ‘সুগার ড্যাডি’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, জেল থেকে ছাড়া পেলে ব্যক্তিকেও তিনি হত্যা করবেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্ত্র দিয়েই গোস্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করেন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, গোস্বামী তাদের বলেছিলেন যে হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তার ফ্ল্যাট থেকে খালি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রিয়ার পরিবারের অভিযোগ, গোস্বামীর মাদকাসক্তির ইতিহাস ছিল। তার কিছু শারীরিক সমস্যাও তিনি গোপন করেছিলেন এবং ২০১৯ সালে আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলেও পরিবার দাবি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের এসব অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন