প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুমি যেখানে থাকো, যে মাঠে খেলো, যে বাসায় থাকো, যেই স্কুলে পড়ো, যেই কলেজে পড়ো, ওখানে কোনো এক জায়গায় প্রতিবছর একটা করে গাছের চারা রোপণ করবে।
শিক্ষার্থীরা এই কাজটি করতে পারবে কি না প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে গ্যালারিতে বসা শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেয়।
কেন বৃক্ষ রোপণ করতে হবে তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখো তোমরা তো বিভিন্ন রকম আর্টিকেলস পড়ো, আমাদের বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে, গাড়ি-ঘোড়া সবকিছু বেড়ে যাওয়াতে গাছপালা অনেক কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে আমাদের বাতাস কিন্তু অনেক পলিউটেড হয়ে গেছে। এখন এই মুহূর্তে যদি এটার ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে একসময় পরিষ্কার বাতাস-বিশুদ্ধ বাতাস শ্বাস হিসেবে নিতে পারব না। সেইজন্য আজকের এই অনুষ্ঠানকে যদি সত্যিকারভাবে ফ্রুটফুল করতে চাই তাহলে এই রিকোয়েস্টটা আমি তোমাদের কাছে করছি এবং তুমি তোমার নিজের জন্য একটা করে গাছ রোপণ করবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল ও কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল এ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালীর গলা চিপার আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের হাতে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখো আমাদের রাস্তাগুলো অনেক ময়লা। এটা তো বাইরে থেকে এসে কেউ ময়লা করছে না। আমরা তো নিজেরাই ময়লা করছি, তাই না? আমরা কি সবাই মিলে পরিষ্কার রাখতে পারি না আমাদের দেশটাকে? সবাই মিলে কি আমরা আমাদের রাস্তাঘাট বিভিন্ন পাবলিক প্লেস পরিষ্কার রাখতে পারি না? পারি। তোমরা কি এই হেল্পটা আমাকে করবে? ”
শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাহলে আমরা এখন থেকে সবাই মিলে একটা কাজ করার চেষ্টা করবো। আমাদের আশেপাশে কেউ যদি কোনো পাবলিক প্লেসে ময়লা ফেলে, জায়গাটা ময়লা হয় আমরা পরিষ্কার করবো ওটা যতটুকু সম্ভব। যে ময়লা ফেলছে তাকে আমরা বলব, এই কাজটা করা অন্যায়। তাকে আমরা লজ্জা দেব যে পাবলিক প্লেসে ময়লা ফেলতে হয় না। সেটা কাগজ হোক, খাবার হোক যেটাই হোক। আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর বাংলাদেশ চাই। কিন্তু আমরা যদি চেষ্টাই না করি কেমন করে বাংলাদেশ সুন্দর হবে?”
‘‘আমাদের কিন্তু মোটামুটি দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার ৬০ বছর বয়স হয়ে গেছে…সময় এখন তোমাদের। সামনে ভবিষ্যৎ তোমাদের। দেশটা গড়ে তুলতে হবে তোমাদের। আমরা হয়তো চেষ্টা করতে পারি, শুরু করে দিয়ে যেতে পারি কিন্তু এটাকে চালিয়ে নিতে হবে তোমাদের।’’
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন