অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত জুলাই মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ১০৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন এসব ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। খবর আল জাজিরার
রোববার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটি জানায়, এসব ঘটনার মধ্যে ছিল সাংবাদিকদের আটক, মারধর, জিজ্ঞাসাবাদ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং ক্যামেরা ও অন্যান্য সংবাদ সরঞ্জাম জব্দ বা নষ্ট করা।
কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার জন্য ঘটনাস্থল থেকে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বেশি ঘটেছে স্বল্প সময়ের জন্য আটক ও সংবাদ সংগ্রহে বিধিনিষেধ। এ ধরনের ৫৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের ১১টি হামলার ঘটনা পাওয়া গেছে। এসব হামলার মধ্যে ছিল মারধর, ধাক্কা দেওয়া ও হুমকি। অধিকাংশ ঘটনা ঘটে সাংবাদিকেরা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময়।
ইসরাইলি বাহিনী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ১২টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে কমিটি। এতে কয়েকজন সাংবাদিক শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন।
এ ছাড়া ছয় সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। গাজায় চলমান পরিস্থিতির খবর সংগ্রহের সময় তাদের মধ্যে চারজন রক্তাক্ত আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গোলার টুকরার আঘাত লাগে। আরও দুই সাংবাদিককে আটক এবং চারজনকে তাদের সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বাড়ি বা গণমাধ্যম কার্যালয়ে চারটি অভিযান চালানোর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনটি ঘটনায় সংবাদ সরঞ্জাম জব্দ বা নষ্ট করা হয়েছে, দুই ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে এবং আল-আকসা মসজিদের আশপাশ থেকে দুই সাংবাদিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ‘হুমকি, হামলা ও হয়রানি থেকে মুক্ত হয়ে’ কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
জুলাইয়ের এসব ঘটনা সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচিত একটি সময়ের সঙ্গে আরও যুক্ত হলো।
অধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ২৭০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাংবাদিকদের নির্বিচারে আটকের ঘটনাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গাজায় তাদের ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অন্য যেকোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন