মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

নিখোঁজ সহকর্মীদের উদ্ধারে ‘ওয়ার রুম’ খুলল কোম্পানি

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ সহকর্মীদের উদ্ধারে কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে ‘ওয়ার রুম’ খুলেছে অস্ট্রিয়ার জলবিদ্যুৎ কোম্পানি অ্যান্ড্রিটজ। কোম্পানিটির প্রায় ১৫০ ভারতীয় ও নেপালি কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

রাজধানী কাঠমান্ডুর কেন্দ্রীয় একটি হোটেলের নিচতলার কক্ষে ১০ জনের একটি দল বসে মানচিত্রে চোখ রাখছেন। দেয়ালে প্রজেক্ট করা হয়েছে আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আশপাশের এলাকার মানচিত্র। ওই এলাকাতেই তাদের নিখোঁজ সহকর্মীদের অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় তখনও ৬৩৯ জন নিখোঁজ ছিলেন।

এর মধ্যে আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পটি কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে এবং তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ২১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি ভোতে কোশি নদী করিডরের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল।

অ্যান্ড্রিটজ প্রকল্পটির সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ করছিল। কোম্পানিটির নেপাল শাখার প্রধান মায়াঙ্ক টোমার বলেন, বন্যার পরপরই তারা উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য এই ‘ওয়ার রুম’ তৈরি করেন। নেপালি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কোম্পানিটিও নিজেদের কর্মীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা নিখোঁজ কর্মীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য নেপালের সেনাবাহিনীকে দিয়েছেন। এর আগে আটকা পড়া কর্মীদের কাছে হেলিকপ্টারে খাবার পাঠানোরও চেষ্টা করা হয়েছিল।

সোমবার ওই এলাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান অভিযানে যাওয়ার অনুমতি পেলেও ভারী বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারজনকে হেলিকপ্টারে এবং আরও আটজনকে দুটি চার-চাকা গাড়িতে করে এলাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দলটির পরিকল্পনা অনেকটা এমন—গাড়ি যেখানে যেতে পারবে না, সেখান থেকে শুরু হবে পায়ে হাঁটা। লক্ষ্য—নিখোঁজদের যত বেশি সম্ভব খুঁজে বের করা, তারা জীবিত হোক বা মৃত।

তবে উদ্ধারকারীদের সামনে রয়েছে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের বড় বাধা। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের ক্যাম্প নদীর পাশে ছিল এবং পুরো এলাকা এখন কাদার নিচে চাপা পড়ে গেছে। কেউ নদীর তলদেশে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজনের অবস্থান সুড়ঙ্গের ভেতরে বলে জানা গেছে।

উদ্ধার পরিকল্পনা করতে গিয়ে দলটি প্রযুক্তিগত সমস্যাতেও পড়ে। হোটেলের ইন্টারনেট কাজ করছিল না, মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল দুর্বল। সর্বশেষ গুগল আর্থের ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিক ছবি পাওয়া যায়নি।

কোম্পানির হিসাবে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় তাদের কর্মীরা ছড়িয়ে থাকতে পারেন। এর মধ্যে পাঁচটি জায়গাকে সম্ভাব্য অনুসন্ধানস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যাম্পের জায়গা এবং সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে।

কক্ষের একপর্যায়ে একজন উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কী মনে হয়, কাউকে পাওয়া যাবে?’ জবাবে আরেকজন বলেন, ‘কাল (আজ) মঙ্গলবার। বন্যার এক সপ্তাহ হয়ে যাবে।’

তারপরও হাল ছাড়তে রাজি নন উদ্ধারকারীরা। তবে সময় যত যাচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ততই কঠিন হয়ে উঠছে। কিন্তু এ দলের মনোবল এতটুকু কমছে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন