লাইফস্টাইল প্রতিবেদন: সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বা ঘূর্ণিবার্তা হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি। বজ্র ও প্রচণ্ড ঘূর্ণি বাতাস সংবলিত আবহাওয়ার একটি নিম্নচাপ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপ মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। এ ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ করা হয়েছে ঘূর্ণিঝড়।
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেতগুলো কী কী: সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্র থেকে সতর্কতা হিসেবে ১-১১ পর্যন্ত সংকেত জারি করে থাকে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ১ নম্বর হচ্ছে দূরবর্তী সতর্কসংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত, ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত, ৫, ৬ ও ৭ বিপদসংকেত, ৮, ৯ ও ১০ মহাবিপদসংকেত এবং ১১ ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ডতার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
ঘূর্ণিঝড় কী: কোন স্থানে বায়ুর তাপ বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উপরে উঠে যায়। ফলে, বায়ুর চাপ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। একে নিম্নচাপ বলে। এ নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রায় বায়ুশূন্য অবস্থা থাকে বলে আশপাশের অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। এ নিম্নচাপ কেন্দ্রমুখী প্রবল ঘূর্ণি বায়ু প্রবাহকে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন বলে।
ঘূর্ণিঝড় কেন হয়: বিষুবীয় অঞ্চলে আর্দ্র ও উষ্ণ হাওয়া মহাসাগরের পৃষ্ঠ থেকে স্বাভাবিকভাবেই উপরের দিকে উঠতে থাকে। এভাবে উষ্ণ হাওয়া উপরের দিকে ওঠার ফলে এটি মহাসাগরীয় পৃষ্ঠে কম বায়ুচাপের একটি এলাকা সৃষ্টি করে। তখন চারপাশ থেকে তুলনামূলক উচ্চ বায়ুচাপ বিশিষ্ট বাতাস সেই কম বায়ুচাপের এলাকায় প্রবেশ করে এবং সেটিও আর্দ্র ও উষ্ণ হতে থাকে। আগের মত এরাও উষ্ণতার জন্য উপরে উঠতে থাকে। এভাবে একটি চক্রের সৃষ্টি হয়। এ উষ্ণ বাতাস উপরে উঠে ঠান্ডা হওয়ার ফলে বাতাসে পানির অণুগুলো জমাট বেঁধে মেঘ তৈরি করে। ক্রমাগত এ উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের উপরে ওঠার কারণে একটি পাকের সৃষ্টি হয়। এ পাক তখন বাতাস ও মেঘ নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আরো শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে এর জ্বালানি হিসেবে কাজ করে মহাসাগরের উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে, মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা। কারণ, তাপমাত্রার ফলেই বাতাস উষ্ণ হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। ঠিক, এ কারণেই এদের বিষুব অঞ্চলে হতে দেখা যায়। পাকের ঘূর্ণনগতি বাড়ার সাথে সাথে ঝড়টির কেন্দ্রে একটি ‘চোখ’ উৎপন্ন হয়। যেহেতু, এ রকম ঝড়ের জ্বালানি আসে সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকে, এ জন্য এরা ভূমিতে গিয়ে ‘জ্বালানি’র অভাবে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। তবে, মহাসাগরে থাকাবস্থায় এর ব্যাপ্তি ও গতির ওপর নির্ভর করে এটি অনেক সময় ভূমিতে বেশ ভাল রকমের তাণ্ডব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এ ঝড়ের বাতাসের বেগ ঘণ্টাপ্রতি ৩৯ মাইলে পৌঁছালে একে ট্রপিক্যাল ঝড় বলা হয় এবং যখন ঘণ্টাপ্রতি বাতাসের বেগ প্রায় ৭৪ মাইল হয়, তখন এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতির ওপর ভিত্তি করে এদের বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণি বিভাজন: বাতাসের তীব্রতা ও গতির ভিত্তিতে ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণি বিভাজন করা হয়। যেমন: নিম্নচাপ- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার; গভীর নিম্নচাপ- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ দশমিক ৮৪ থেকে ৬১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার; ঘূর্ণিঝড়- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ দশমিক ৫৬ থেকে ৮৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার; প্রবল ঘূর্ণিঝড়- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ দশমিক ১ থেকে ১১৮ দশমিক ২৬ কিলোমিটার এবং হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রবল ঘূর্ণিঝড়- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৯ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন