মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শিরোনাম

ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার খবর ‘ভুয়া’

মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে সরাসরি অর্থ দেওয়ার খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অর্থ দিচ্ছে—এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে—এ খবর ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো অপপ্রচার।’

তবে ট্রাম্পের ‘৩০০ মিলিয়ন ডলার’ উল্লেখ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইরানের জন্য সম্ভাব্য ‘৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ তহবিলের’ কথা উঠে এসেছে।

‘মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার হবে না’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকে আসবে না।

তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, এই তহবিলের এক পয়সাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে না।

সিবিএস মর্নিংসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরান কেবল কঠোর কিছু শর্ত পূরণ করলেই এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নেওয়া।

তার ভাষায়, ‘ইরান যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে তারা এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। এই অর্থ উপসাগরীয় দেশগুলোর জোটের মাধ্যমে আসতে পারে।’

শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে তহবিল

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টি বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্পূর্ণভাবে ইরানের কার্যক্রম ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বড় তহবিল গঠন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের কাছে ‘শূন্য ডলার’ গেছে এবং শুধু চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো অর্থ ছাড়া হবে না।

ভ্যান্সও এর আগে এক্সে লেখেন, চুক্তির আওতায় ইরানকে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হবে না।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস: বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য হতে পারে তহবিল

ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সরাসরি সরকার থেকে সরকারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য নয়; বরং ইরানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি চূড়ান্ত সমঝোতা প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ইউরোপ, এশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে আগ্রহ দেখাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন