ইসরাইলি হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ফরাসি নাগরিক ও গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার কর্মী মেরিয়েম হাদজাল। তিনি সম্প্রতি ফ্রান্সে ফিরে এই অভিযোগ তোলেন।
এক ভিডিও বার্তায় হাদজাল বলেন, ‘আমাকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমরা পৌঁছানোর পরই আমাদের গরম কাপড় খুলে নেওয়া হয়। এরপর তারা আমাদের কে এক এক করে একটি কালো কনটেইনারে যেতে বলেন।’
তিনি বলেন, ‘ওই কনটেইনারে তিনজন সৈন্য ছিল। আর এক সেনা উলঙ্গ অবস্থায় মাটিতে শুয়ে ছিল। তাদের মধ্যে একজন আমার শরীরে স্পর্শ করা শুরু করে। এরপর আমার মাথায় খুব জোরে আঘাত করা হয়।’
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ইসরাইলি মন্ত্রী ইতেমার বেন গভীর এক কর্মীর ওপর হামলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন।
এই ফ্লোটিলায় ৫০টিরও বেশি নৌযান ছিল। এতে কর্মীরা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা বহন করছিলেন। নৌবহরটি গাজার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সাইপ্রাসের কাছে মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী নৌযানগুলোকে আটক করে এবং অভিযান চালায়।
আয়োজকরা জানান, এই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের সমুদ্র অবরোধ ভেঙে দেওয়া এবং গাজায়চলমান মানবিক সংকটের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নৌযানগুলোতে উঠে যাত্রীদের আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এরপর তাদের ইসরাইলে স্থানান্তর করা হয়।
বেশ কয়েকজন কর্মী পরে অভিযোগ করেন যে আটক অবস্থায় তাদের অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তারা শারীরিক নির্যাতন, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন