বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শিরোনাম

এবার জ্বালানি পরিবহণে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তান-ইরাকের চুক্তি

বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

হরমুজ প্রণালীর জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি পরিবহণ চুক্তি করেছে ইরাক ও পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহণের জন্য দুই দেশই ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত এই অঞ্চল থেকেই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করে সেখানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের ক্লদিও স্টয়ার বলেন, হরমুজ আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, এটি এখন ইরানের নিয়ন্ত্রিত করিডরে পরিণত হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে গোপন সমঝোতার আওতায় ইরাকের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কারণ দেশটির বাজেটের প্রায় ৯৫ শতাংশই তেল আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ইরাকের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ইরানের স্বার্থেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে পৃথক এক চুক্তির আওতায় কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি জাহাজ পাকিস্তানের দিকে রওনা দিয়েছে। শিল্প সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরিবহণও ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

যুদ্ধের আগে পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো পেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বেড়ে গেছে।

এমএসটি মারকির গবেষণা প্রধান সল কেভোনিক বলেন, যদি আরও দেশ ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি করে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৫ শতাংশে।

এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় এলএনজির দামও বেড়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন