শনিবার, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

জালিয়াতি বিতর্কে থাকা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার

শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

চুরি বা প্ল্যাজিয়ারিজমের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়া কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে (৪১) মারা গেছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিয়ার একটি বাসা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে জরুরি সেবা সংস্থা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত হলেও আপাতদৃষ্টিতে কোনো সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসির।

গত সপ্তাহে বিতর্কের মুখে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জেসন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির সমস্ত অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন।

জেসনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই প্রচারণার মানসিক চাপ জেসন সহ্য করতে পারেননি। তিনি অত্যন্ত সৎ ও একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন, যিনি সবসময় সবার ভালো চাইতেন।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন জেসন। ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে না পারা এবং ১৮ বছর বয়সে লিখতে-পড়তে শেখা জেসনের এই সাফল্যকে একাডেমিয়া জগতে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে দেখা হতো।

তবে ২০২৪ সালে নাথান কফনাস নামে এক গবেষক জেসনের কাজের বিরুদ্ধে জলিয়াতীর অভিযোগ তোলেন। জবাবে জেসন কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে জানান, তার অটিজমের কারণে লেখার ক্ষেত্রে তিনি অনুকরণ বা ‘মিমিক্রি’ কৌশল ব্যবহার করতেন। তবে ইচ্ছাকৃত চুরির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেছিলেন, একাডেমিয়া জগতের এই নিষ্ঠুর আচরণ ও তাকে ‘প্রতারক’ বানানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ অন্যায়। পরবর্তীতে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি পদত্যাগ করেন।

জেসনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কেমব্রিজ, গ্লাসগো ও ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কেমব্রিজের ভাইস-চ্যান্সেলর ডেবোরা প্রেন্টিস এবং শিক্ষাসচিব লুসি পাওয়েল তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে, জেসনের মৃত্যুর পর একাডেমিয়া জগতে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপকদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সহকর্মীদের অভিযোগ, জেসনের ওপর যে মাত্রায় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন