পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় মহলের দাবি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত করেছেন।
২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) মাত্র ৮১টি আসনে এগিয়ে আছে।
যদিও শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে আছেন, তবুও মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শমীক ভট্টাচার্য ও অগ্নিমিত্রা পালের নামও আলোচনায় রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী এবার ভবানীপুরে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও তিনি মমতাকে পরাজিত করেছিলেন। দলীয় নেতাদের মতে, মমতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াইয়ের পুরস্কার হিসেবেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে।
উল্লেখ্য, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, যেখানে তাকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও অমিত শাহ তার সঙ্গে ছিলেন, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী প্রায় ৭৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, যেখানে মমতা পেয়েছেন প্রায় ৫৮ হাজার ভোট। এছাড়া নন্দীগ্রামেও তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
ফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি হিন্দুত্ব, বাংলার মানুষ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জয়ের প্রতিফলন।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অগ্নিমিত্রা পালকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, বিশেষ করে যদি দল নারী মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দলের এই সাফল্যও তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে রেখেছে।
খুব শিগগিরই কলকাতায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দলীয় নেতাদের মতে, গত দুই মাসে শুভেন্দু অধিকারীর জোরালো প্রচার এবং হিন্দু ভোটব্যাংকের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কৌশলই বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে বড় কারণ।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন