শনিবার, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে ৮৯ শতাংশ অগ্নিসংযোগের পেছনে ইসরাইলি দখলদাররা

শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

২০২৩ সালের শুরু থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, ভবন ও যানবাহনে ঘটে যাওয়া অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় ৮৯ শতাংশের জন্য ইসরাইলি দখলদাররা দায়ী। এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন সম্পদে মোট ৯০০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৯টি অগ্নিকাণ্ডের জন্য সরাসরি ইসরাইলি দখলদাররা দায়ী এবং বাকি ১০১টি ঘটনা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ২১৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৪টিতে এবং ২০২৫ সালে এই সংখ্যা পৌঁছে ৩০৭টিতে। এমনকি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই (১০ জুলাই পর্যন্ত) ১১২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এই ধ্বংসাত্মক হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাবলুস এবং রামাল্লাহ ও আল-বিরা অঞ্চল। কমিশন নথিভুক্ত করা মোট ঘটনার প্রায় ৬১.৩ শতাংশই ঘটেছে এই দুটি এলাকায়, যার মধ্যে নাবলুসে ২৮১টি এবং রামাল্লাহ ও আল-বিরায় ২৭১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

একই সময়ে অন্তত ১২১টি ফিলিস্তিনি জনপদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি এলাকা পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে ৩,০০০-এরও বেশি শিশুসহ মোট ৬,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি কমিশন এই সহিংস হামলার জন্য ইসরাইলি সরকারের ‘সহায়ক পরিবেশ’-কে দায়ী করেছে, যা দখলদারদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করে বিচারে মুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলো দিন দিন অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ এবং ফিলিস্তিনিদের জমি ও পানির উৎসে চলাচলের অধিকার হরণ করার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন