শনিবার, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

‘যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে চমক’, নতুন অস্ত্র প্রস্তুতের দাবি ইরানের

শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ যুদ্ধগুলোতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন ‘চমক’ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে। তবে এসব সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

তালায়ি-নিক বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এ সময় দেশটি দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।

তিনি দাবি করেন, ব্যাপক ভৌগোলিক পরিসরে হামলা এবং প্রতিপক্ষের ভারী অগ্নিশক্তি সত্ত্বেও সরকার সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং কেন্দ্রীয় খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সহায়তা করেছে। এর ফলে প্রতিপক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনলেও রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগও সৃষ্টি করেছে।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় উৎপাদন অব্যাহত ছিল।

তালায়ি-নিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কার্যক্রমে সহায়তা করছে এবং কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান অর্জনের দিকেও এগোচ্ছে ইরান।

তিনি জানান, বর্তমানে ইরান ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় ‘চমক’ ছিল দেশের স্থিতিস্থাপকতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এতে প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বজায় রাখা হয়, যাতে প্রতিপক্ষ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ না পায়।

এ ছাড়া ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, এর ফলে পরবর্তী সংঘাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

সবশেষে তালায়ি-নিক বলেন, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতায় আরও কিছু ‘চমক’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সময় এলে সেগুলো যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ পাবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন