মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

শিরোনাম

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: সিআইআই

মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন সিআইআই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রসংসা করে বলছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কৌশলের সঙ্গে ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্য রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে আরও শ‌ক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

সোমবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশনের সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতীয় শিল্পখাতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এ কথা বলেন।‌ তি‌নি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায় শুধু বিদ্যমান সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার শক্তিশালী মিল আমরা দেখতে পাচ্ছি। সবার আগে বাংলা‌দেশ মূলত দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীল উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো অন্তর্মুখী কৌশল নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে ট্যান্ডন বলেন, ‘এশিয়ায় ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাধা কমানো ও সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

ট্যান্ডন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক, যা সমন্বিত আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল গঠনের সুযোগ তৈরি করছে।’

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি শুধু পণ্য বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সেবা, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা উন্নয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।’

খাতভিত্তিক সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবেই থাকবে, তবে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, মানদণ্ড, যন্ত্রপাতি ও নকশাগত সক্ষমতার ওপর।’

এছাড়া চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি, নতুন উদ্যোগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতেও সম্প্রসারিত সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যান্ডন বলেন, ‘ডিজিটাল গণঅবকাঠামো, আর্থিক প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে। তিনি বাংলাদেশের অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ব্যবসা-টু-ব্যবসা সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।’

অনুষ্ঠানে ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মনীষ মোহনও বক্তব্য দেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন