শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

শিরোনাম

বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক জয়কে ফিলিস্তিনের উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন মিশরের কোচ

শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো নকআউটে জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এই ঘোষণার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ধ্বংসস্তূপ আর বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরেও উদ্‌যাপিত হয় মিশরের এই জয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় মিশর ও অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। এরপর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে ফারাওরা। এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

৯২ বছর পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল মিশরের প্রথম নকআউট জয়। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে তারা প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নিয়েছিল। প্রায় ৯২ বছর পর নকআউট পর্বে ফিরে এসে এবার প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল তারা।

ঐতিহাসিক জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বার্তা দেন কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহিদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয়কে আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।

হোসাম হাসানের এই বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গাজার বহু বাসিন্দা মিশরের জয়কে নিজেদের আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে উদ্‌যাপন করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জয় উৎসর্গ করায় মিশর ও তাদের কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অনেকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়ও বিশ্বকাপের এই ম্যাচ ঘিরে ছিল ভিন্ন এক আবহ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের পাশে, বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবু শিবিরে কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ী বড় পর্দা বসিয়ে শত শত মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের পাশেই পরিবার-পরিজন নিয়ে জড়ো হয়েছেন গাজার বাসিন্দারা। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিশরের জাতীয় পতাকা। ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তারা। টাইব্রেকারে মিশরের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর চারদিকে আনন্দধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।

ম্যাচ শেষে মাঠেও দেখা যায় আবেগঘন দৃশ্য। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোচ হোসাম হাসান মিশরের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে মিশরের ফুটবলাররা মাঠেই সিজদায় অবনত হয়ে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। ইতিহাস গড়া এই জয় শুধু মিশরের ফুটবলের জন্যই নয়, যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় থাকা অসংখ্য ফিলিস্তিনির জন্যও এক বিরল আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন