রবিবার, ২৩ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

বেলজিয়ামের রাজপুত্র হলেন গাড়ি বিক্রেতা

রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

সাবেক গাড়ি বিক্রেতা ক্লেমেন্ট ভ্যানডেনকারখোভকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের ছেলে ও উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট। এর ফলে পিতৃত্বের আইনি স্বীকৃতি পেয়ে বেলজিয়ামের রাজপরিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন ২৬ বছর বয়সি ক্লেমেন্ট।

জানা যায়, বেলজীয় গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের সঙ্গে প্রিন্স লরেন্টের অতীতের একটি সম্পর্কের সূত্রে ক্লেমেন্টের জন্ম হয়েছিল। খবর বিবিসির।

প্রায় ছয় মাস আগে নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে সাধারণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্লেমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারভুক্ত করেন লরেন্ট, তবে তথ্যটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। অবশ্য এই স্বীকৃতির ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুত্রের মর্যাদা পেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না।

নতুন রাজকীয় পরিচিতি লাভ করলেও ক্লেমেন্ট সরাসরি বেলজিয়াম রাজপরিবারের ক্ষমতার উত্তরাধিকারীও হচ্ছেন না। লরেন্টের অপর তিন সন্তান—প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স আইমেরিক ও প্রিন্স নিকোলাসের মতো তার নাম রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে না এবং তিনি কোনো সরকারি রাজকীয় কার্যক্রমেও অংশ নেবেন না। এমনকি বাবার বংশীয় পদবি ‘স্যাক্স-কোবার্গ’ গ্রহণ করা নিয়েও কিছুটা দ্বিধায় আছেন সাবেক এই গাড়ি বিক্রেতা।

বেলজীয় পত্রিকা ‘হেট নিউসব্লাড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নতুন পদবি গ্রহণ করা সহজ হলেও তিনি নিজের মায়ের দেওয়া ‘ভ্যানডেনকারখোভ’ পদবি নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। কারণ এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা মানে তার মায়ের সমস্ত ত্যাগের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করার আগে প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের (প্রকৃত নাম আইরিশ ভ্যানডেনকারখোভ) সম্পর্ক ছিল।

গত বছর প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে ক্লেমেন্ট জানান, ২০১৩ সালে একটি শপিংমলে তিনি প্রথম অচেনা হিসেবে লরেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৬ বছর বয়সে তিনি প্রথম মায়ের কাছে নিজের বাবার প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন। এর কয়েক বছর পর তিনি সাহস করে লরেন্টকে ফোন দিলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয় এবং প্রিন্স নিজেই হাসপাতালের ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তাব দেন। পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো ইমেইলে তার পিতৃত্বের বিষয়টি ৯৯.৫ শতাংশ সুনিশ্চিত করা হয়।

প্রিন্স লরেন্টের এই ডিএনএ পরীক্ষার ঘটনা বেলজিয়াম রাজপরিবারের পুরোনো বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। এর আগে লরেন্টের বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবার্ট দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ে ২০২০ সালে নিজের এক অবৈধ কন্যাসন্তানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সেই সন্তান ডেলফাইন বোয়েল আদালতের রায়ে ‘প্রিন্সেস ডেলফাইন দে স্যাক্স-কোবার্গ’ উপাধি লাভ করেন। এমনকি পিতৃত্ব কেন্দ্রিক এই বিতর্কের জের ধরে ২০১৩ সালে আলবার্ট সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বেলজিয়ামের ২০১৩ সালের আইনি সংশোধন অনুসারে বর্তমানে কেবল রাজা ফিলিপ, সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবার্ট, প্রিন্স লরেন্ট এবং প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিড রাষ্ট্রীয় ভাতা পান।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন