বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

শিরোনাম

ব্যর্থ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’, যে কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পিছু হটতে বাধ্য হল যুক্তরাষ্ট্র

বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

মধ্যপ্রাচ্যে পেশিশক্তি প্রদর্শনের নীতি থেকে আপাতত পিছু হটতে বাধ্য হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা একে ট্রাম্পের বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার চীন সফরে পৌঁছেছেন। ঠিক একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুংদা ফ্যান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কোনো সুস্পষ্ট সামরিক পথ না থাকা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবল চাপের মুখেই ট্রাম্প এই আপস করতে বাধ্য হয়েছেন।

অধ্যাপক ফ্যান মনে করেন, ‘হুমকি দিয়ে জেতার’ পুরোনো মার্কিন কৌশল এখানে কাজে আসেনি। আসন্ন শি-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে উত্তেজনা কমানোর একটি বিশ্বব্যাপী চাহিদা ছিল। এছাড়া, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থার সংকট প্রকট হওয়ায় বেইজিং এখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চীন তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে চীন একটি বড় ধরনের ব্রেকথ্রু বা সমাধান বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন