মঙ্গলবার, ২৫ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। সংকটটি এখন দশম বছরে পা দিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে কমেছে বিদেশি সহায়তাও। ফলে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরেগুলোতে দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে জীবন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এর পর থেকে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যাতে একসময় রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। তবে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব।
সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন কমে যাচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কথা বলে সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৯০-এর দশক থেকেই কাজ করছে কানাডাভিত্তিক দাতব্য সংস্থা হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খান বলেন, বিশ্বে এখন অনেক আন্তর্জাতিক সংকট চলছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট অনেকটাই মানুষের নজরের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, আগে যেভাবে বিভিন্ন দেশ ও দাতাদের কাছ থেকে সহায়তা আসত, এখন তা আর হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে শিবিরগুলোর জীবনযাত্রায়। পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। মাহমুদা খান মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ মানুষ যদি এই সংকটের কথা ভুলে যায়, তাহলে সহায়তাও কমতে থাকবে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো ঠিকভাবে পূরণ করা না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এর প্রভাব শুধু শিবিরে নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। ২০১৭ সালে কুতুপালং শিবিরে আসা ৩০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা হোসাইন জোহরের কথাতেও সেই কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অনেকের জন্য রেশন এখন যথেষ্ট নয়। তাই রেশন বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাও বাড়ানোর দাবি তাদের।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন