যুদ্ধের অবসানের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রুশ প্রেসিডেন্টকে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে এ প্রস্তাব দেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ না এলে ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যাবে। খবর জিও নিউজের।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার বেশিরভাগ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা শান্তি চায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ইরান সংকটের দিকে থাকায় ইউরোপের যুদ্ধ আবার তাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না।
জেলেনস্কির মতে, শান্তির পথ শুরু হতে হবে যুদ্ধের সামনের সারি বা ফ্রন্টলাইন থেকেই।
তিনি বলেন, আলোচনা চলাকালে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বাভাবিক ও প্রচলিত পদ্ধতি।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সংঘর্ষ বন্ধ হওয়া এলাকায় তা পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
জেলেনস্কি বৈঠকের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন এবং বলেন, যুদ্ধ ও শান্তি নিয়ে আলোচনা আয়োজনের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং আরব বিশ্বের দেশগুলোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পুতিনের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন আমাদের দুজনের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি। কিন্তু আপনি যদি নিজে এই সিদ্ধান্তে না পৌঁছান যে যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, তাহলে ইউক্রেন তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।’
চিঠিতে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পুতিনের ব্যক্তিগত অবস্থানকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তিনি লেখেন, ‘রাশিয়ার ইতিহাসের একটি বাস্তবতা আপনি ভালোভাবেই জানেন—যখন রাশিয়া ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন পরিবর্তন আসে।’
এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা জেলেনস্কির চিঠি দেখেছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেজানান, চিঠিটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেও আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রস্তাবের একটি অর্থবহ জবাব আশা করছি। যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। এখন শান্তিকে বেছে নেওয়ার সময়।’






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন