স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসীদের ঘিরে উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের ব্যবহৃত অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে আগুন ধরিয়ে দেন এবং তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মরক্কো থেকে ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের প্রায় এক মাস পর এ ঘটনা ঘটল।
বৃহস্পতিবার স্পেনের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বেনিতেজ সমুদ্রসৈকতে অভিবাসীদের অস্থায়ী শিবিরে ঢুকে পড়েন। সেখানে তারা তাবু ও অভিবাসীদের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন।
কিছু জিনিস সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় এবং কয়েকটি তাবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় অভিবাসীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পোলিন সৈকতে অবস্থান নেওয়া অভিবাসীদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া রেডক্রসের গাড়িও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় পুলিশের অনুরোধে ত্রাণবাহী গাড়িগুলো প্রথমে ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা থেকে সরে যায়। পরে এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ একটি পথ পরিষ্কার করে দিলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রতিদিনের খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।
গত কয়েক দিন ধরে সেউতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিতে এসব বিক্ষোভ শুরু হয়। তাদের বেশির ভাগই পরে মরক্কোয় ফিরে গেলেও এল পাইসের হিসাব অনুযায়ী, এখনো ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী সেউতায় অবস্থান করছেন। ভূখণ্ডটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।
সরকার জানিয়েছে, সেউতায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন মেয়ে এবং অনেকের বয়স ১৩ বছরের নিচে বলে জানিয়েছেন যুবমন্ত্রী সিরা রেগো।
বুধবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ট্রাম্পোলিন সৈকতের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাদের অভিবাসীদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আরটিভিইর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন বিক্ষোভকারী অভিবাসীদের গদি, কম্বল ও অন্যান্য জিনিসপত্র সমুদ্রে ফেলে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
ওই ঘটনার পর একদল অভিবাসী একটি গাড়িতে পাথর ছুড়লে চার সেনাসদস্য আহত হন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সহিংসতার কয়েক ঘণ্টা আগে সেউতার পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে থাকা আঞ্চলিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেল ভিক্টর তোরেস সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। অভিবাসী হওয়ার কারণে কাউকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করারও সতর্কতা দেন তিনি।
সংসদে তোরেস জানান, অস্থায়ী অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রে আরও ৪০০টি জায়গা যোগ করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৩ জনে। পাশাপাশি রাতে প্রাপ্তবয়স্কদের থাকার জন্য আরও দুটি স্থানে ১ হাজার ৮২৭ জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে সরকার আরও ১ হাজার ৫০০ জনের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগের পরও আশ্রয়, প্রত্যাবাসন বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের বিভিন্ন স্থানে তৈরি অস্থায়ী শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন।
সরকার বলছে, যেসব অভিবাসীর সেউতায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠানো অগ্রাধিকার। তবে মন্ত্রী তোরেস জানিয়েছেন, সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কেউ আশ্রয় চাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন