সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শিরোনাম

ইরানের জবাবকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প, কী আছে এতে?

সোমবার, মে ১১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠিয়েছে ইরান। তবে ইরানের দেওয়া এ জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি— একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

এদিকে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে ইরান বলেছে, ‘ট্রাম্পকে খুশি করতে ইরানে কেউ কোনো পরিকল্পনা তৈরি করে না।’

সূত্রটি আরও জানায়, ইরানের আলোচক দল শুধু দেশের জাতীয় স্বার্থকেই গুরুত্ব দেবে।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক ইরানের এই জবাবে কী কী আছে—

অবরোধ ও তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের তেল বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কিন ওএফএসি (ওএফএসি)নিষেধাজ্ঞা বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

প্রস্তাবে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি

ইরানের জবাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও রাখা হয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহঘনিষ্ঠ আল মায়াদিন টিভির বরাতে জানা গেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচনায় তেহরানের অন্যতম ‘লাল দাগ’ বা ‘অনড় অবস্থান’।

ইরান জানিয়েছে, লেবাননে উত্তেজনা কমাতে হলে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়েছে, কোনো চুক্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতিও দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে— এমন কোনো কাঠামো তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনার প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

পারমাণবিক কর্মসূচি

এক ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের জবাবের মূল লক্ষ্য পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননে, এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসন করা।’

তিনি জানান, ইরানের জবাবে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতসংক্রান্ত দাবিগুলো পূরণ করেনি।

খবরে বলা হয়, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার এবং এর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, আলোচনা ভেঙে গেলে বা ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে গেলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে।

ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে রাজি হয়েছে, তবে ২০ বছরের কম সময়ের জন্য। একই সঙ্গে তারা তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তাব

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর একটি বিস্তৃত চুক্তি চূড়ান্ত করতে ৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। প্রস্তাবিত নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা যাচাইয়ের জন্য পারস্পরিক কিছু পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলবে বলে জানানো হয়েছে।

এক ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের জবাব বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে আলোচনা দ্রুত এগোবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।’

আইআরএনএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের এই জবাব পাঠানো হয়েছে। আপাতত পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত আকারেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন