মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

শিরোনাম

পরাজয়ের ধাক্কার কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মমতা

মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ দেড় দশকের আধিপত্যের পর এবার বিরোধী আসনে বসতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করতে আগামী শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রাজ্যের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠককে শুধু সাংগঠনিক বৈঠক হিসেবে নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রথম বড় বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা, সংগঠনের ভীত মজবুত করা এবং বিজেপি পরিচালিত নতুন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, সেই কৌশল নিয়েই মূল আলোচনা হতে পারে। ইতোমধ্যেই কালীঘাট থেকে জেলার সভাপতিদের কাছে বৈঠকের বার্তা পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এত বড় ধাক্কার মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল থেমে গেছে ৮০টি আসনে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতীকী ধাক্কা এসেছে ভবানীপুর থেকে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফল ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কীভাবে আবার সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন মমতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক তৃণমূলের জন্য এক ধরনের ‘রিসেট মোমেন্ট’। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে সংগঠনের ভেতরে যে আত্মতুষ্টি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, বুথভিত্তিক সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোতেই এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন মমতা।বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলায় বিজেপির দ্রুত উত্থান এবং একের পর এক সাংগঠনিক সাফল্য তৃণমূলকে চাপে ফেলেছে। ফলে শুধু প্রশাসনিক সমালোচনা নয়, রাজনৈতিকভাবে জনমানসে নতুন করে জায়গা করে নেওয়াও এখন তৃণমূলের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই জেলার নেতৃত্বকে মাঠে নেমে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিতে পারেন মমতা।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে মমতা বোঝাতে চাইবেন যে তৃণমূল এখনো লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েনি। বরং বিরোধী আসনে থেকেও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের হতাশ কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ফেরানো এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।‌ বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন নজর কালীঘাটের সেই বৈঠকের দিকে। কারণ, এই বৈঠক থেকেই হয়তো স্পষ্ট হবে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস কোন পথে এগোতে চাইছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের লড়াই সাজাতে চান।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন