বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শিরোনাম

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের শিরোনাম, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে অপারেশন স্লেজহ্যামার নিয়ে আলোচনা করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি শুরু হওয়ার কথা।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধ করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো চলছে কারণ, তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না করা পর্যন্ত নতুন আলোচনায় জড়িত হতে অস্বীকার করেছে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধের সমাপ্তি- বিশেষ করে লেবাননে – নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পরে এটি সামনে এলো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করেছিল। তারপর ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন