শনিবার, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগির’ মার্কিন ভূখণ্ড হবে বললেন ট্রাম্প

শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানকে পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ঘোষণা খুব শিগগিরই দেওয়া হতে পারে। তবে কীভাবে এমন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে, যা এখন খুব খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে-খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’

হেসে হেসে এ কথা বলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সত্য।’ একই দিনে ফক্স নিউজকে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ছিল অভিযানের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই পথ বন্ধ বা সীমিত থাকায় জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের অবরোধ আছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই পার হতে পারবে না।’ তিনি এ অবরোধকে বিশ্বের জন্যও একটি ‘বড় সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এর বিরোধিতা করেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে দখল করা যাবে না। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তার দাবি, এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন