ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার ঠিক আগে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। খবর বিবিসির।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তীব্র কম্পনে এবং তার পরপরই আসা ডজনখানেক আফটারশক-এ বহু ঘরবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর নিচে অনেকে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ করে যাচ্ছে।
পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন।
তাছাড়া মাউমেরে বন্দরের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ইন্টার-আইল্যান্ড ফেরির অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর টার্মিনাল ভবনের বিশাল কংক্রিটের টুকরো ভেঙে পড়েছে। জাহাজে ওঠার গ্যাংওয়ে ধসে পড়ায় কয়েকজন সমুদ্রের পানিতে পড়ে যান।
ভূমিকম্পের পর পরই কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে, যা মূল ভূকম্পনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর তুলে নেওয়া হয়। সুনামি সতর্কতার খবর শুনে সমুদ্র উপকূলবর্তী বাসিন্দারা আতঙ্কে উঁচু পাহাড়ের দিকে ও দূরবর্তী এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ২,০০০ মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া নাগেকেও এলাকার প্রায় ২,০০০ বাসিন্দাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিক্কা-র তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমি ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ ভীষণ জোরে ঝাঁকুনি পেয়ে জেগে উঠি এবং দ্রুত বাচ্চার ঘরে যাই। বাইরে বের হয়ে দেখি উপকূলের কাছাকাছি থাকা প্রতিবেশীরা ইতোমধ্যেই পাহাড়ের দিকে ছুটছেন। সাগরের পানি অনেকটা নেমে গিয়েছিল, তাই সবাই আতঙ্কে দৌড়াতে শুরু করে।’
আফটারশকের ভয়ে অনেক বাসিন্দা রাতে আর ঘরে ফেরেননি, তারা বাইরে উন্মুক্ত স্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
প্রাথমিক ধাক্কার পর ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটি ছিল ৬.১ মাত্রার।
অঞ্চলটি বেশ দুর্গম ও পার্বত্য এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং সমুদ্র উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন