ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা মারওয়ান বারঘৌতির অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সংহতি জানিয়েছেন বিশ্বের ২০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এদের মধ্যে মার্ভেল সিনেমার অন্তত ২০ জন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন।
‘ফ্রি মারওয়ান নাউ’ নামক গ্রুপের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য জেরুজালেম পোস্টের।
‘ফ্রিডম ফর মারওয়ান’ শীর্ষক এই প্রচারণায় সংহতি জানানো তারকাদের মধ্যে রয়েছেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ খ্যাত তারকা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ‘হাল্ক’ খ্যাত মার্ফ রাফালো, ‘ম্যাগনেটো’ খ্যাত ইয়ান ম্যাককেলেন, কেট ব্লানচেট, টিল্ডা সুইন্টন সহ অনেকে।
সংগঠকদের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মারওয়ান বারঘৌতির টানা কারাদণ্ড, বন্দিদশায় তার ওপর চলা সহিংস নির্যাতন এবং আইনি অধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন ইসরাইলি কারাগার থেকে তাকে মুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষের দিকে মারওয়ান বারঘৌতির পরিবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন শুরু করে। অভিনেতা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালকেরা এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন।
কে এই মারওয়ান বারঘৌতি?
মারওয়ান বারঘৌতি ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘ফাতাহ’-এর একজন সিনিয়র নেতা এবং ফাতাহ-র সশস্ত্র শাখা ‘আল-আকসা মার্টার্স ব্রিগেডস’-এর সাবেক প্রধান। প্রথম ও দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার (গণঅভ্যুত্থান) সময় তিনি প্রধান নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ২০০২ সালে ইসরাইলি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।
ইসরাইলি বিচার ও দণ্ড
২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর একাধিক বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বারঘৌতিকে দায়ী করে ইসরাইল। ২০০৪ সালে ইসরাইলি আদালত তাকে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারে তাকে টানা পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বারঘৌতি ইসরাইলি আদালতের এখতিয়ার ও বিচারপ্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন।
ফিলিস্তিনে জনপ্রিয়তা
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা সত্ত্বেও মারওয়ান বারঘৌতিকে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের প্রধান জাতীয় নেতা এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জরিপ অনুসারে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী তিনি। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটার বারঘৌতিকে সমর্থন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও সমর্থকদের কাছে তিনি প্রায়ই ‘ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা’ নামে অভিহিত হন।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন