টানা কয়েকদিনের রোদ ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি আরও কমতে শুরু করেছে। জেলার সবকটি পয়েন্টেই গত ২৪ ঘণ্টায় পানি হ্রাস পেয়েছে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় প্রকাশিত পানির লেভেল ও বন্যা সংক্রান্ত তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩.১৪ মিটারে নেমেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। চামড়াঘাটে মগড়া নদীর পানি ২.৭৭ মিটারে দাঁড়িয়েছে, কমেছে ৮ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি কমে ২.৪০ মিটারে নেমেছে, যা ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৫০ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা ৯ সেন্টিমিটার কমেছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০১ থেকে ৪৩০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
এদিকে কয়েকদিন ধরে রোদ থাকায় হাওড়াঞ্চলে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। কৃষকেরা ডুবে যাওয়া ক্ষেত থেকে ধান উদ্ধার, খলায় রাখা ধান শুকানো এবং দ্রুত ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও নৌকায় করে ধান পরিবহণ করতেও দেখা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজানের ঢল বা নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তন হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নদ-নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমির ধান পানি নিচে রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কৃষক। এতে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন