যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে নানা বাধা তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রথমত, ইরান নীতি ও সামরিক ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক অভিযান, নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ তাতে বাধা দিতে পারে অথবা বিভিন্ন শর্ত আরোপ করতে পারে। পাশাপাশি ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগও বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইসরাইল-ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তনের চাপ তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহায়তার ওপর শর্ত আরোপের উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তৃতীয়ত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এসব দেশের সম্ভাব্য পারমাণবিক সহযোগিতা ও বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের বিষয়ে দেশগুলোর ওপর ডেমোক্র্যাটদের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চতুর্থত, কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি সময়ে আইন প্রণয়ন ও অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এ ধরনের পরিস্থিতিকে ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্সি বলা হয়। এতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাধার মুখে পড়ে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
এ ছাড়া মার্কিন কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে বিরোধ বাড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলো ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, সামরিক ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন নির্ভর করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে তার ওপর।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন